Monday, August 25, 2025

শুল্কের চাপ: ১০৩টি বোয়িং কিনবে কোরিয়ান এয়ার

দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি নির্মাতা হুন্দাই মোটর বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ২৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করবে।


  দেড় শতাধিক বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সম্মতি এবছর দিয়েছে কোরিয়ান এয়ার। ছবি: রয়টার্স


যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির সঙ্গে আরও ব্যবসা করতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে যে চাপ সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে ১০৩টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে সম্মত হয়েছে কোরিয়ান এয়ার।

এ লক্ষ্যে কোরীয় এয়ারলাইনটি মার্কিন এভিয়েশন জায়ান্ট বোয়িংয়ের সঙ্গে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি ঘোষণা করেছে।

দুই কোম্পানি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ চুক্তির আওতায় বোয়িংয়ের ৭৮৭, ৭৭৭ এবং ৭৩৭ মডেলের যাত্রীবাহী জেট নেবে কোরিয়ান এয়ার।

কোম্পানির প্রধান ওয়াল্টার চো বলেছেন, নতুন এ জেটগুলো আসবে এক ‘সন্ধিক্ষণে’। তাতে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী বিমান কোম্পানির বহর আধুনিক হবে। ফলে আসিয়ানা এয়ারলাইন্সের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সময় কোম্পানির প্রতিযোগিতামূলক থাকা নিশ্চিত হবে।

বিবিসি লিখেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা বাদে এ ঘোষণা আসে। এশিয়ার দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র গত জুলাইয়ে ১৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে, তা নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হয়।

উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি প্রকাশ করা হয় দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতাদের এক বৈঠকে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রী কিম জং-কোয়ান।

সিউলের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে হওয়া একাধিক চুক্তির একটি হচ্ছে কোরিয়ান এয়ারের চুক্তি।

সোমবারই দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি নির্মাতা হুন্দাই মোটর গ্রুপ ঘোষণা করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ২৬ বিলিয়ন ডলার করবে।

ট্রাম্প ও লির বৈঠকের খানিকবাদেই হুন্দাই ঘোষণা দেয়, তারা যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন কারখানা স্থাপন করবে, যেখানে বছরে ৩০ হাজার রোবট তৈরি করা সম্ভব হবে।

বিবিসি লিখেছে, এ চুক্তির আওতায় থাকবে ৫০টি বোয়িং ৭৩৭-১০ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ এবং ৪৫টি দূরপাল্লার জেট। কোরিয়ান এয়ার আটটি ৭৭৭-৮ ফ্রেইটার কার্গো উড়োজাহাজও কিনবে।

বোয়িং বলছে, এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কর্মসংস্থান বজায় থাকবে। বিশ্বজুড়ে কোম্পানির নিয়োগ করা জনশক্তির সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার।

সবশেষ চুক্তিসহ এ বছর বোয়িংয়ের কাছে কোরিয়ান এয়ারের ক্রয়াদেশ ও প্রতিশ্রুত বিমানের সংখ্যা সার্ধশতাধিক বলে বিবিসি জানিয়েছে।

এই জেট কেনার পরিকল্পনা অনেক দিন ধরেই আলোচনায় ছিল। সিউল মার্চে জানিয়েছিল, বোয়িং ও মার্কিন ইঞ্জিন নির্মাতা জিই অ্যারোস্পেসের সঙ্গে কোরিয়ান এয়ারের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জিইর সঙ্গে করা ১৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিটিও সোমবার ঘোষণা করা হয়।

বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যেসব দেশ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, তারাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বোয়িং কেনার পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে।

জাপান গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে ১০০টি বোয়িং জেট কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের চাপ কমাতে ৫০টি বোয়িং জেট কেনার চুক্তি করেছে ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স গারুডা।

এসব চুক্তির ফলে মার্কিন কোম্পানিটির বিক্রি ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসকে ছাড়িয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বোয়িং নানা সংকটে পড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দুটি মারাত্মক দুর্ঘটনা এবং উড়ন্ত অবস্থায় একটি বিমানের অংশ বিশেষ ছিটকে যাওয়া।

২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে একটি বোয়িং ৭৩৭ উড্ডয়নের পর বিধ্বস্ত হয় এবং উড়োজাহাজের ১৮৯ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। কয়েক মাস পর ইথিওপিয়ায় আরেকটি বোয়িং বিমান উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়, যেখানে ১৫৭ জন নিহত হন।

আর ২০২৪ সালে ব্যবহৃত না হওয়া জরুরি নির্গমন দরজার প্যানেল বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান থেকে মাঝ আকাশে খুলে যায়।

গত বছর প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর প্রায় আট সপ্তাহের ধর্মঘটে বোয়িংয়ের যুক্তরাষ্ট্রের কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: