বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এসএসসি পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ বছরের শিক্ষার একটা জাতীয় স্বীকৃতি। নব্বইয়ের দশকেও এই পরীক্ষায় গড়ে ৪০-৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করত। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করত। সেটাই ছিল অনেকটা প্রতিষ্ঠিত ও স্বাভাবিক চিত্র।
কিন্তু তখনো সরকার এই ব্যাপক ফেলের সমাধানের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি, কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি; বরং শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, স্কুলে স্কুলে রাজনৈতিক প্রভাবযুক্ত কমিটি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় শিক্ষার গুণগত মানকে আরও খারাপই করেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণেও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
বিগত এক দশকে সরকারি নির্দেশে, এসএসসিতে পাসের হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। ৮০-৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ‘পাস’ করছে, এমন এক বাস্তবতায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। যেখানে প্রকৃত যোগ্যতার মূল্যায়ন অনেক সময়েই উপেক্ষিত হয়েছে। পাস করা শিক্ষার্থীরা কতটুকু জেনে পাস করছে, সেসব বিষয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে এ বছরের এসএসসি ফলাফল এক বিস্ময় জাগিয়েছে। এ বছর প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পাস করেছে গড়ে ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাকি ৩২ শতাংশ, তথা ৬ লাখ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। ২০০০ সালের আগেও দেশে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যাই ছিল ৬-৭ লাখ; অর্থাৎ শুধু ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা একসময়কার পুরো দেশের পরীক্ষার্থীর সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটাকে আমি সংকট হিসেবেই দেখি।
‘ম্যাট্রিক ফেল’, বাংলাদেশে এটি একটি ভয়ংকর সামাজিক ট্যাবু। যারা ফেল করেছে, তাদের মানসিক অবস্থা কল্পনা করলেই বোঝা যায়, এই বয়সে তারা কতটা ভেঙে পড়ে। অনেকেই পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। কেউ রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। আবার কেউ চিরতরে হারিয়ে যায় কর্মসংস্থানের প্রধান স্রোত থেকে। অনেকেই সমাজের বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। এদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। প্রশ্ন হলো, এই ব্যর্থতা কি শুধুই শিক্ষার্থীর?





